Wednesday 06 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরান যুদ্ধে প্রতিদিন ব্যয় শত কোটি ডলার, অস্ত্রের মজুদ নিয়ে সংকটে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
৩ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৯ | আপডেট: ৪ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৪

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন এক ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ওয়াশিংটনের পকেট থেকে খসেছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, আর প্রস্তুতির খরচসহ এই অঙ্ক প্রতিদিন শত কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করছে।

তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক নেতৃত্বকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন এক ভিন্ন সংকটের। তাদের মতে, ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট থাকলেও প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ এর মতো অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে আর্থিক সক্ষমতার চেয়েও অস্ত্রের রসদ বা ‘ইনভেন্টরি’ বজায় রাখাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অপারেশন এপিক ফিউরি কী?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা আট মিনিটের এক ভিডিওতে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযানে অংশ নিয়েছে। পেন্টাগন পরে জানায়, এই মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে যাচ্ছি এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব। এটি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র ও প্রযুক্তি

সেন্টকমের মতে, অপারেশন এপিক ফিউরিতে আকাশ, সমুদ্র, স্থল এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২০টিরও বেশি অস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে। সেন্টকমের প্রাক্তন অপারেশন ডিরেক্টর কেভিন ডনেগান জানান, মূল লক্ষ্য হলো ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে দ্রুত ধ্বংস করা।

আকাশ শক্তি: বি-১ ও বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-৩৫, এফ-২২ র‍্যাপ্টর, এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এ-১০ অ্যাটাকার বিমান। ইএ-১৮জি গ্রাউলার ব্যবহৃত হচ্ছে ইলেকট্রনিক আক্রমণের জন্য।

ড্রোন ও রকেট: প্রথমবারের মতো ‘লুকাস’ নামক সাশ্রয়ী ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, হিমার্স রকেট এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল সক্রিয় রয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও নৌ-শক্তি: ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখতে প্যাট্রিয়ট ও থাড ব্যবস্থা কাজ করছে। এ ছাড়া ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামক দুটি শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার মোতায়েন আছে।

যুদ্ধে আমেরিকার কত ব্যয় হতে পারে?

একটি চলমান সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হবে তা বলার সময় এখনো আসেনি।

স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রিবল আল জাজিরাকে বলেছেন, পেন্টাগন এই তথ্য প্রকাশ করেনি, তাই আমরা কেবল ধারণা করতে পারি… তবে এখানে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। আমরা প্রতিটি অস্ত্রের খরচ এবং বিভিন্ন অভিযান ও নৌ-অভিযানের ব্যয় নিয়ে অনুমান করতে পারি।

আনাদোলু নিউজ এজেন্সির মতে, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। হামলার আগের প্রস্তুতিতে খরচ হয়েছে আরও ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ অন্তত তিনটি মার্কিন ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়েছে।

সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-এর মতে, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতে প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো অস্ত্রের মজুদ। প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ এর মতো জটিল মিসাইলগুলো রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরঞ্জাম সংকটে পড়তে পারে।

প্রিবল বলেন, খরচের দিক থেকে এটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে এবং এটি ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুতরাং, এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। আসল প্রশ্নটি হলো মার্কিন অস্ত্রাগারে অস্ত্রের প্রকৃত মজুদ নিয়ে, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা এসএম-৬-এর মতো ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়ে, যা ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখতে ব্যবহৃত হয়।

প্রিবল সতর্ক করে বলেছেন , এভাবে উচ্চ হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। সম্ভবত এটি কয়েক সপ্তাহের বেশি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর