ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিকে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হলে দেশটিকে দেওয়া সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নুরি আল-মালিকি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইরাকের পার্লামেন্টে শিয়াদের বৃহত্তম অংশ ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে নুরি আল-মালিকির নাম জানিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইরাক ‘খুবই বাজে একটি পছন্দ’ বেছে নিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘মালিকির সর্বশেষ আমলে দেশটি দারিদ্র্য আর সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলায় ডুবে গিয়েছিল। এটি আর ঘটতে দেওয়া উচিত নয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তার (নুরি আল-মালিকি) পাগলাটে নীতি ও আদর্শের কারণে, নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরাককে সহায়তা করবে না।’
‘আমরা যদি সহায়তার জন্য না থাকি, তাহলে ইরাকের সাফল্য, সমৃদ্ধি বা স্বাধীনতার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য। ইরাককে আবার গৌরবের পথে ফেরান’ বলেন ট্রাম্প।
একটি চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা বলেছেন, নিজেদের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার বিষয়টি বাগদাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে ‘মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে’ ইরাকের পরবর্তী সরকার সম্পর্কে ওয়াশিংটন অবশ্যই নিজস্ব সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেবে।
ইরানের মদদপুষ্ট ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ পরবর্তী সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলেও ট্রাম্প প্রশাসন হুমকি দিচ্ছে-এমনটা জানিয়েছেন ইরাকের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক। তাদের ভাষ্য, ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে এ তথ্য জানিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
নুরি আল-মালিকির বয়স ৭৫ বছর। তিনি ইরাকি শিয়া ইসলামপন্থীদের দাওয়া পার্টির জ্যেষ্ঠ একজন রাজনীতিক। ২০০৬ সালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নুরি আল-মালিকি। ক্ষমতায় ছিলেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত। ওই সময় সুন্নি ও কুর্দিদের সঙ্গে ক্ষমতার টানাপোড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে।
২০১৪ সালে আইএস যখন ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়, তখন নুরি আল-মালিকি সরকারপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে ইরাকের রাজনীতিতে বরাবরই তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখেছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক নিজেদের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র ওয়াশিংটন আর তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে। তবে ট্রাম্প ইরাকের শাসনকাঠামো থেকে ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীলদের সরাতে চান।
ইরাকের ওপর মূল প্রভাব রয়েছে আমেরিকার। কারণ দেশটির তেল রফতানির রাজস্ব মূলত নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা থাকে, যা ২০০৩ সালে ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর সম্পাদিত একটি চুক্তি অনুসারে সম্পন্ন হয়।