ভারতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) নেতা এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার ছাড়াও আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতী বিমানবন্দরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
হিন্দুস্তান টাইমস এর খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বিমানের পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন।
দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিওতে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলীতে ঢাকা বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক অধিদফতর জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, অজিত কে বহনকারী বিমানটি জরুরি অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়।
মুম্বাই থেকে পাওয়ার তার নিজের শহর বারামতি যাচ্ছিলেন। ঠিক সেসময় বিমানটি রানওয়ের থ্রেশহোল্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিয়ারজেট ৪৫ নামের বিমানটিতে পাওয়ারের সঙ্গে একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা (পিএসও) এবং একজন সহকারী এবং পাইলট-ইন-কমান্ড এবং ফার্স্ট অফিসারসহ দুইজন ক্রু ছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নিহত ৫ জনের মধ্যে অজিত পাওয়ার ছাড়াও, তার নিরাপত্তা কর্মী বিদিত যাদব, দুই পাইলট সুমিত কাপুর এবং শাম্ভবী পাঠক এবং পিঙ্কি যাদব নামে একজন আছেন।
বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ভিটি এসএসকে নামে নিবন্ধিত বিমানটি মুম্বাই থেকে বারামতি যাওয়ার সময় স্থালীয় সময় সকাল ৮:৪৮ মিনিটে রানওয়ে ১১-এর থ্রেশহোল্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়।
মুম্বাই বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘বিমানটি বিধ্বস্তের সময় এটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিমানের যাত্রী কেউ বেঁচে নেই।
প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, অজিত পাওয়ার বরামতিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনের জনসভায় অংশগ্রহণের জন্য যাচ্ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দুর্ঘটনার খবরে দু:খ প্রকাশ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের সকলের জন্য আমার সমবেদনা। গভীর শোকের এই মুহূর্তে শোকাহত পরিবারের জন্য শক্তি ও সাহস প্রার্থনা করছি।’
আরেকটি পৃথক পোস্টে, তিনি পাওয়ারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা প্রবীণ রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ারের ভাগ্নে অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন।
কয়েক দশক ধরে তিনি ভারতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বেশ কয়েকবার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কয়েক বছর আগে, তিনি বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে নিয়ে শরদ পাওয়ারের দল থেকে আলাদা হয়ে নিজের দল গঠন করেছিলেন যা ভারতের নির্বাচন কমিশন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপি হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
তার দল মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির সাথে মহারাষ্ট্রের শাসক জোটের অংশ ছিল।