ঢাকা: ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের (১৪৪৭ হিজরি) ভিসা ইস্যু ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হজবিষয়ক অফিসগুলোর জন্য এই ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর গালফ নিউজের।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমনের বহু মাস আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু হয় ৮ জুন ২০২৫ থেকে। যা ছিল ১২ জিলহজ ১৪৪৬ হিজরি। ওইদিন বিশ্বব্যাপী হজবিষয়ক অফিসগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনাসংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়।
সফর মাসের শুরুতেই এসব অফিসকে নুসুক মাসার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর ক্যাম্পসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের অ্যাক্সেস দেওয়া হয়। ফলে পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১লা রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি থেকে আবাসন ও মৌলিক সেবাসংক্রান্ত প্রাথমিক চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষ করা, চূড়ান্ত অপারেশনাল তথ্য সম্পন্ন করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে হজযাত্রী নিবন্ধন চালু করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জমাদিউল আউয়াল মাসে বড় পরিসরের সেবাচুক্তি সই হবে এবং সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে একটি হজ সেবা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
২০২৬ সালের শুরুতেই হজের প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে। জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহণ এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবাসংক্রান্ত সব চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর পর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। মার্চ মাসে ভিসা প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে এবং হজযাত্রীদের আগমনপূর্ব প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য জমা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথম হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমন শুরু হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে। এর মাধ্যমে হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে। ঘোষিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, হজযাত্রীদের আগমনের আগেই অবকাঠামো ও সেবাগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে এটি অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোর সব সেবাচুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নুসুক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মক্কার আবাসন চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তার মধ্যে ৩০ হাজার হজযাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকেই সরাসরি প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে প্রায় ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭৩টি হজবিষয়ক অফিস তাদের মৌলিক চুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করেছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, আর্থিক ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নুসুক মাসার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ালেট ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং বুকিংসংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হজবিষয়ক অফিস ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদিত সময়সূচি পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।