Monday 05 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইরানকে নতুন ৫ শর্ত ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর আলোচনায় বসেছে দুই দেশ। আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যকার এই পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ আলোচনার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়েছেন ট্রাম্প।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আলোচনার জন্য ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক মহল বলছে, ট্রাম্পের দেওয়া পাঁচটি শর্ত এতটাই কঠোর যে, সেগুলো মেনে নেওয়া ইরানের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘মাআরিভ’-এর বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, সব পারমাণবিক স্থাপনা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মিত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা, মিসাইল পোগ্রাম বা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো কোনো আলোচনার প্রস্তাব নয় বরং এক চূড়ান্ত আলটিমেটাম। ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এখন চিন্তিত হওয়া উচিত। ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাস মূলত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করা ভুল হবে কারণ তেহরান গত ৪৫ বছর ধরে ঠিক এই মুহূর্তটির জন্যই প্রস্তুতি নিয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুলরহিম মুসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা তাদের সামরিক নীতি রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে পরিবর্তন করেছেন।

চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ব্রনওয়েন ম্যাডক্সের মতে, ব্যালিস্টিক মিসাইল হলো ইরানের একমাত্র ঢাল; এই কর্মসূচি বন্ধ করার অর্থ হলো ইসরায়েলি বিমান শক্তি এবং মার্কিন স্টিলথ বোমারু বিমানের সামনে নিজেদের সম্পূর্ণ অরক্ষিত করে দেওয়া। কোনো ইরানি সরকারই এই আত্মঘাতী শর্ত মেনে নেবে না।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই আলোচনা নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি জ্বালানি মন্ত্রী ইলি কোহেন দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক চুক্তির কোনো মূল্য নেই। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ প্রধান শেখ নাঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তারা নিরপেক্ষ থাকবেন না। তার মতে, আসন্ন এই সংঘাত হবে সবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস হবে না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর