ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই শিশু।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমাবার (২ মার্চ) ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেন কেরমানপুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
কেরমানপুর আরও জানান, তেহরানের গান্ধী হাসপাতালেও কয়েক ঘণ্টা আগে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
গতকাল রোববার (১ মার্চ) ছিল মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের দ্বিতীয় দিন। এর আগে প্রথম দিনে তেহরানে খামেনির বাসভবন ও কার্যালয়ে আকাশপথে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন। ইরানের নিহত শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর।
অসমর্থিত সূত্রে বরাত দিয়ে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোববার দাবি করেছেন, ইরানে হামলায় দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে, তিনি (ট্রাম্প) এতে রাজি হয়েছেন।
ইরান সে দেশে হামলায় হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেনি। আর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রোববার ইসরায়েলে ৯ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন।