তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর পাকিস্তান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ বিক্ষোভে ২০ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রোববার (১ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে করাচিতে ১০ জন, স্কার্দুতে কমপক্ষে আটজন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে দুজন নিহত হয়েছেন।
২৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান মূলত সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ এবং তারা সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
ইসলামাবাদে, হাজার হাজার মানুষ রেড জোনের কাছে জড়ো হয়েছিল, যেখানে দেশটির সংসদ, সরকারি অফিস এবং বিদেশী দূতাবাস অবস্থিত। বিক্ষোভকারীরা সেখানে এই বলে স্লোগান দিচ্ছিল, ‘যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তারা বিশ্বাসঘাতক’ এবং তারা‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
৫,০০০ থেকে ৮,০০০ মানুষ, নারী ও শিশুসহ, রাজধানীর বড় হোটেলগুলোর একটির কাছে জড়ো হয়েছিল, তাদের হাতে ছিল খামেনির ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
২৮ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সৈয়দ নায়াব জেহরা বলেন, ‘আমাদের সরকার তোমাদের সঙ্গে না থাকলেও, আমি এবং আমার পরিবার ইরানিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে সমাবেশে যোগ দিয়েছিলাম।
তিনি আল জাজিরাকে আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই, আমাদের শিয়াদের হালকাভাবে নেবেন না। আমরা এখানে বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে এসেছি যে আমরা প্রতিশোধ নেব। আমরা আমাদের নিজস্ব সরকারের কাছ থেকে কিছু আশা করতে পারি না, তবে আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের পক্ষে দাঁড়াব।’
পাকিস্তান সরকার ইরানের উপর মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর ইরানের পরবর্তী আক্রমণেরও সমালোচনা করেছে।