সাগরে আটকে থাকা রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এবং ‘বিশ্বের জ্বালানি খাতকে জিম্মি করার ক্ষেত্রে ইরানের চেষ্টাকে’ রুখে দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেসেন্ট আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ’। যেহেতু এটি শুধু সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাই এর মাধ্যমে রুশ সরকার বড় কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না।
তিনি এটিকে একটি ‘স্টপগ্যাপ মেজার’বা ‘অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ ওয়াশিংটন আশা করে যে ভারত শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে।
তিনি আরও বলেন, এই ‘স্টপগ্যাপ মেজার’ইরানের বিশ্বব্যাপী জ্বালানি জিম্মি করার প্রচেষ্টার ফলে সৃষ্ট চাপ কমাবে।
ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ প্রবাহ কমাতে রাশিয়ান ব্যারেল কেনা এড়াতে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লিকে কয়েক মাস ধরে চাপ দেওয়ার পর বেসেন্টের এই ঘোষণা এসেছে।
ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে তেল আমদানিকারক দেশগুলো রাশিয়ার বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা হলো ভারত। ইউক্রেন যুদ্ধের তহবিল কমাতে ভারত যাতে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে, সে জন্য দিল্লির ওপর বিশেষ চাপ বজায় রেখেছিল ওয়াশিংটন।