Friday 06 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানে যুদ্ধের ৭ম দিন
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩২ | আপডেট: ৬ মার্চ ২০২৬ ২১:০৯

বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় তেহরানের আকাশ।

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সপ্তম দিনে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই বোমাবর্ষণ আগামীতে আরও ‘নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি’ পেতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা তেহরানের শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুদ্ধের এক নতুন ধাপ শুরু করেছে।

একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের বি-২ স্টিলথ বোম্বার ব্যবহার করে মাটির গভীরে অবস্থিত ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চারগুলোর ওপর কয়েক ডজন শক্তিশালী ‘পেনিট্রেটর’ বোমা নিক্ষেপ করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, তেহরানের কেন্দ্রস্থল, বিশেষ করে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাস্তুর স্ট্রিটের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকাগুলোতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। উল্লেখ্য, এই পাস্তুর স্ট্রিটেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত এবং যুদ্ধের শুরুর দিকে এখানেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছিলেন।

হামলার তীব্রতা সম্পর্কে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় শুক্রবার ভোরের হামলা ছিল সবচাইতে ভয়াবহ। বিস্ফোরণের কম্পনে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি আবাসিক ভবন, পার্কিং লট এবং পেট্রোল পাম্পের মতো বেসামরিক স্থানেও আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩২ জনে। এর মধ্যে শিরাজ শহরের জিবাহশাহর এলাকায় এক হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের নামও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৮১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে ১৭৫ জনই মারা গেছে যুদ্ধের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলায়।

এই স্কুল হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই দায়ী হতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, তারা ইরানের মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছেন, যা আমেরিকার ওপর হুমকি সৃষ্টির ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। তবে ইরান পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আগামী দিনগুলোতে হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যেই তাদের নৌবাহিনীসহ সক্ষমতার সবকিছু হারিয়েছে, তাই সেখানে স্থল অভিযান চালানো এখন সময়ের অপচয় মাত্র।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর