Thursday 12 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ৮ মুসলিম দেশের তীব্র নিন্দা

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১২ মার্চ ২০২৬ ১০:৪২ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৭

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত ডোম অফ দ্য রক। ছবি: এএফপি।

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিনের মতো আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে আটটি আরব ও মুসলিম প্রধান দেশ। কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জ্ঞাপন করেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের পুরাতন শহর এবং এর উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকারের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, ঐতিহাসিক ও আইনি অবস্থা এবং উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশাধিকারের নীতিসহ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

বিজ্ঞাপন

তারা এই পদক্ষেপকে ইবাদতের জায়গায় অবাধ প্রবেশের অধিকারের ওপর একটি ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিবৃতিতে মন্ত্রীরা বলেছেন, এই অবৈধ ও অযৌক্তিক পদক্ষেপের, সেইসঙ্গে আল-আকসা মসজিদ / আল-হারাম আল-শরীফে এবং এর উপাসকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান এবং নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে অধিকৃত জেরুজালেম বা এর ইসলামিক ও খ্রিস্টীয় পবিত্র স্থানগুলির ওপর ইসরায়েলের কোনও সার্বভৌমত্ব নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা ‘একচেটিয়াভাবে’ মুসলমানদের জন্য এবং জর্ডানের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত জেরুজালেম এনডাউমেন্টস এবং আল-আকসা মসজিদ বিষয়ক বিভাগ হলো ‘একচেটিয়া এখতিয়ারসহ আইনি সত্তা।’

বিবৃতিতে মন্ত্রীরা দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের গেট খুলে দিতে, জেরুজালেমের পুরাতন শহরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং মুসলিমদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে এসব নিয়ম লঙ্ঘন বন্ধে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ফলে তথাকথিত ‘নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা নেওয়ার নাম করে ইসরায়েলি বাহিনী উপাসকদের ওপর এবং পুরাতন শহরে প্রবেশের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

তবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (১১ মার্চ) একে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের ওপর চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, মসজিদ বন্ধ রাখার এই নীতিকে তারা বর্ণবাদী ও বেআইনি হিসেবে দেখছে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসও এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, পবিত্র রমজান মাসে উপাসনালয় বন্ধ রাখা একটি ‘ভয়াবহ ঐতিহাসিক নজির’ এবং এটি সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় ধরণের হস্তক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর