ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকার চলমান যুদ্ধে তেলের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের পর প্রথমবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৬ ডলারে পৌঁছালো।
সোমবার (১৬ মার্চ) সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের ট্যাঙ্কারগওলোর চলাচল স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যেই রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তেলের দাম এত বৃদ্ধি পেল।
হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে কবে থেকে চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না তাই বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম রোববার ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। আর্ন্তজাতিক সময় অনুযায়ী, ভোর ০৪:৩০ পর্যন্ত ব্রেন্টের মান ব্যারেল প্রতি ১০৪.৬৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রায় ১.৫ শতাংশ বেশি।
মার্কিন তেলের দাম ২.৬% বেড়ে ১০১.৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধের ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল বিপর্যয় ঘটেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে তেলের ট্যাঙ্কারগুলো চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০% এই প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ট্রাম্পের সাহায্যের আহ্বান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে অন্যান্য দেশের প্রতি সহযোগিতা আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প যেসব দেশের নাম উল্লেখ করে সহযোগিতা চেয়েছেন তাদের মধ্যে চীন, জাপান, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে তাদের কেউই প্রকাশ্যে এই প্রণালী সুরক্ষিত করার জন্য তাদের নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ন্যাটোকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধে মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হলে ন্যাটোর সামনে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যৎ’। রোববার ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে সতর্ক করে এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সহায়তা না করে, তবে ন্যাটো একটি খুবই খারাপ ভবিষ্যতের সম্মুখীন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মিত্রদের সমালোচনা করা ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটো নামক আমাদের একটি জিনিস আছে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব দয়ালু হয়েছি। ইউক্রেন নিয়ে তাদের সাহায্য করার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না। ইউক্রেন আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। কিন্তু আমরা তাদের সাহায্য করেছি। এখন দেখা যাক, তারা আমাদের সাহায্য করে কি না। কারণ আমি অনেক দিন ধরেই বলছি যে, আমরা তাদের পাশে থাকব কিন্তু তারা আমাদের পাশে থাকবে না। আর তারা আমাদের পাশে থাকবে কি না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
তার ঠিক কী ধরণের সাহায্য প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, যা কিছু প্রয়োজন । তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প ফিনান্সিয়াল টাইমসকে আরও বলেছেন, তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি উন্মুক্ত করতে চীন সরকারকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই মাসের শেষের দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত সম্মেলন পিছিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্পের যুক্তি, যারা এই প্রণালির সুবিধাভোগী, এটা কেবল তাদের জন্যই সমীচীন যে, তারা সেখানে খারাপ কিছু না ঘটা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সোমবার জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া উভয়ই জানিয়েছে যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইরান দেশটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত বলে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) কেন্দ্রের মতে, আগে যেখানে দৈনিক গড়ে ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত সেখানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন পাঁচটির বেশি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করেনি।