ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতিশোধমূলক হামলায় ৫০০-এর বেশি মার্কিন সামরিক সদস্যের মধ্যে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দফতর।
শনিবার (২৮ মার্চ) তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এক বিবৃতিতে ইরানি মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, আক্রমণকারী মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত হামলা এবং এ অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হওয়ার ভয়ে পালিয়েছে এবং ঘাঁটির বাইরে আত্মগোপন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় তাদের দুটি গোপন আস্তানা শনাক্ত করা হয়েছে; যার প্রথমটিতে ৪০০ জনের বেশি এবং দ্বিতীয়টিতে ১০০ জনের বেশি সদস্য অবস্থান করছিল। দুবাইয়ের এই আস্তানা দুটিতে আইআরজিসির বীর মহাকাশ ও নৌবাহিনীর নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে।’
আরও পড়ুন-ইরানের হামলায় ইউক্রেনের ২১ ড্রোন বিশেষজ্ঞ নিহতের শঙ্কা
মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত ও আহত মার্কিন কমান্ডার ও সৈন্যদের সরিয়ে নিতে অ্যাম্বুলেন্সগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যস্ত সময় পার করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের এটি পুরোপুরি বুঝতে হবে, এই অঞ্চলটি মার্কিন সৈন্যদের কবরস্থানে পরিণত হবে। ইসলামের বীর যোদ্ধা এবং বীরত্বগাথা জনগণের ঐশ্বরিক ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।
আরও পড়ুন-ট্রাম্পের খেয়ালি সিদ্ধান্তে বিশ্বে কমছে মার্কিন প্রভাব
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে চালানো ব্যাপক বিমান হামলায় প্রচুর হতাহত এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পালটা জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও দখলকৃত ভূখণ্ডে এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঢেউ আছড়ে ফেলে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।