ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া—এই দুটির মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
লেবাননে ইসরায়েলে হামলার প্রেক্ষাপটে বুধবার (৮ এপ্রিল) টেলিগ্রামে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট, আমেরিকাকে হয় যুদ্ধবিরতি, নয়তো ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া—এর একটি বেছে নিতে হবে, দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব এখন লেবাননে হত্যাকাণ্ড দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং বিশ্ব জনমত দেখছে—এই দেশটি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কি না।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের খবর পাওয়া গেছে, যা শান্তি আলোচনার পথকে ক্ষুণ্ন করছে। আমি আন্তরিকভাবে সব পক্ষকে সংযম ও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে সম্মান করার আহ্বান জানাই, যাতে কূটনৈতিক তৎপরতা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহায়ক হতে পারে।’
এই সংকটের মূলে রয়েছে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে অস্পষ্টতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আজ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এদিকে লেবাননে হামলার প্রতিবাদে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, সকালে মাত্র দুটি ট্যাংকারকে পার হওয়ার অনুমতি দিলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল স্থগিত করে দেয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছেন। তেহরান থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে এবং পাল্টা আঘাত হানবে।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরদ্দিন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১১২ জন নিহত এবং ৮০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বৈরুত, দাহিয়েহ, বেকা উপত্যকা, মাউন্ট লেবানন ও দক্ষিণাঞ্চলে ১০০টির বেশি বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চলমান এই হামলায় দেশটিতে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।