চলতি এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস বা ‘কনজিউমার সেন্টিমেন্ট’ কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোক্তারা আগামী ১২ মাসে দেশটিতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা করছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের এক জরিপ অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।
জরিপ বলছে, গত মার্চে ভোক্তা আস্থার সূচক যেখানে ছিল ৫৩.৩ শতাংশ, এপ্রিলের শুরুতেই তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে ৪৭.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
রয়টার্সের অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, এটি বড়জোর ৫২.০ শতাংশে নামতে পারে, কিন্তু বাস্তব চিত্র প্রত্যাশার চেয়েও ভয়াবহ। বয়স, আয় বা রাজনৈতিক আদর্শ নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষের মধ্যেই এই নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
তবে জরিপ সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগেই অধিকাংশ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গ্যালন প্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলেছে।
জরিপ পরিচালক জোয়ান সু জানান, সাধারণ মানুষ অর্থনীতির এই প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য মূলত ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকেই দায়ী করছেন।
মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়ে জরিপটিতে বলা হয়, আগামী এক বছরে মুদ্রাস্ফীতি ৪.৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা, যা গত মার্চে ছিল ৩.৮ শতাংশ। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের মুদ্রাস্ফীতির হারও ৩.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।