মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কমছে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করার পর বুধবার ৪৫ দিন পার হলো। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চললেও এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধপূর্ব সময়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত, এখন সেখানে মাত্র অল্প কিছু জাহাজ যাতায়াত করছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র
বুধবার দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৭১ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এর দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ৫০ সেন্ট বেড়ে ৯১ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন পদক্ষেপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলতি সপ্তাহেই পুনরায় শুরু হতে পারে। তবে আলোচনার কথা বললেও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই অবরোধের ফলে সমুদ্রপথে ইরানের সব ধরনের আমদানি-রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট সমাধানে একযোগে কাজ করছে এবং তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার উদ্যোগে বেইজিং খুশি।
এদিকে ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার বলেন, ‘যদি এই সপ্তাহে কোনো সমঝোতা হয় এবং হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া হয়, তবুও তেল, গ্যাস, সার ও হিলিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।’
অন্যদিকে, এসইবি অ্যানালিস্ট ওলে হভালবাই এক কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়াটা কেবল ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। ইরানের নিজস্ব হিসাব-নিকাশ আছে। শান্তি চুক্তির পরেও তারা হয়তো কৌশলগত কারণে সরবরাহ সীমিত রাখতে পারে, যাতে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায় অথবা নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা যায়।’
তেল শোধনাগারগুলো এখন মরিয়া হয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ফলে উত্তর সাগর বা মার্কিন মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের জন্য তারা বাড়তি প্রিমিয়াম দিতেও রাজি হচ্ছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর দেওয়া ৩০ দিনের বিশেষ নিষেধাজ্ঞা মকুব সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র আর বাড়াবে না। এ ছাড়া রুশ তেলের ওপর থাকা একই ধরনের সুবিধাও গত সপ্তাহে শেষ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুদ
বাজার এখন মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সরকারি তথ্যের অপেক্ষায় আছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ টানা তিন সপ্তাহের মতো বেড়েছে।