যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে-ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। অল্প সময়ের জন্য দাম ১২২ ডলারে ওঠে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে এসে এখন তেলের দাম ১২০ ডলার।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিক ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে।
গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন ভোক্তাদের জীবনে এই যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সেটিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই বৈঠক কার্যত হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার।
এই বৈঠকের আগেই মার্কিন পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের ইরানের ওপর চলমান অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। মূলত ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি।
তেল ব্যবসায়ীরা এই বৈঠককে একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি আরও অনেক দিন বন্ধ থাকতে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ওই বৈঠকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নৌ-চলাচল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জ্বালানি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবেই এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কয়েক সপ্তাহ ধরেই কার্যত বন্ধ রয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।
শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
এশীয় বাণিজ্যে এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬.৩১ ডলারে পৌঁছানোর পর, ইউরোপীয় বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে প্রায় ১২১ ডলারে নেমে আসে।
পেট্রোল ও ডিজেলের একটি প্রধান উপাদান হলো অপরিশোধিত তেল, এবং ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এর দাম বেড়ে যাওয়ায় গাড়িচালকদের জন্য পাম্পের দামও বেড়েছে।
গাড়িচালকদের সংগঠন আরএসি (RAC)-এর মতে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে পেট্রোলের গড় দাম লিটার প্রতি ১৫৭ পেন্স, যা যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ২৪ পেন্স বেশি। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১৮৯ পেন্স, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী দামের তুলনায় ৪৬ পেন্স বেশি।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর ১৭ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে নেমে আসে। তবে এরপর থেকে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকায় গত ১২ দিন ধরে তেলের দাম আবার ধীরে ধীরে বাড়ছে।