মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর কারাবন্দি নোবেল বিজয়ী সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। শনিবার (২ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত শুক্রবার সু চির আইনজীবী বলেছিলেন, মিয়ানমার সরকার তাঁর মক্কেলের সাজার মেয়াদ ৬ ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সু চি তার বাকি সাজা গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পর ক্ষমতায় আসেন সু চি। ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী এই নেত্রী ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আটক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাজধানী নাইপিদোর একটি সামরিক কারাগারে তাকে রাখা হয়েছিল।
৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং। তিনি এক বিবৃতিতে সুচির বিষয়ে বলেন, ‘সু চির অবশিষ্ট সাজা নির্ধারিত বাসভবনে ভোগ করার জন্য রূপান্তর করা হয়েছে।’

এদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ছবিতে তাকে দুইজন ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তার সঙ্গে বসা অবস্থায় দেখা যায়। তবে তার ছেলে কিম আরিস এই দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যি কি-না তার কোনো প্রমাণ আমি পাইনি। ছবিটি ২০২২ সালের, তাই এটি অর্থহীন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যতক্ষণ না আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি, বা কেউ স্বাধীনভাবে তার অবস্থা ও অবস্থান নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ আমি কিছুই বিশ্বাস করব না।’
সু চির স্বাস্থ্য ও আটক অবস্থার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার পরিবারও বহু বছর ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এমনকি তার আইনজীবীরাও তিন বছরের বেশি সময় ধরে তাকে দেখেননি। ২০২১ সালের মে মাসে আদালতে হাজিরার সময় তোলা একটি ছবি ছাড়া এরপর আর কোনো নতুন ছবি বা বক্তব্য প্রকাশ পায়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ব্যাপকভাবে সাজানো বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে সু চির সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টার্নেল বলেন, সামরিক সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে “জনসংযোগ প্রচারণা” চালাচ্ছে, এবং সু চির গৃহবন্দি হওয়ার খবরও তারই অংশ হতে পারে।
টার্নেল আরও বলেন, ‘তিনি অভ্যুত্থানের পর এক বছরের বেশি সময় আটক ছিলেন। তখন কারাগারের পরিবেশ ছিল মধ্যযুগীয় এবং অত্যন্ত খারাপ—খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা ছিল নিম্নমানের। ৮০ বছর বয়সী একজন মানুষের জন্য এ ধরনের পরিবেশ ভয়াবহ।’
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া সু চি একসময় অহিংস আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন। তবে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।