ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘিরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের চালান কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন ভয়াবহ মাত্রায় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শেষ পর্যন্ত ফসলের উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি খাদ্যপণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে।
শনিবার (২ মে) আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেও বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে কারণ আমরা এখন ফসলের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বপন মৌসুম পেরিয়ে গেছে।’
এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় রফতানিকারক দেশগুলো এমন সব ফসল চাষের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে। অর্থাৎ তারা গম ও ভুট্টা চাষ থেকে সয়াবিন চাষের দিকে সরে যেতে পারে। অন্যদিকে, অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে কিছু কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকতে পারেন।’
তোরেও আরও বলেন, ‘গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। এটি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হবে এবং আমরা আশা করছি আগামী বছরে পণ্যমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমার আশঙ্কা করছি- পণ্যমূল্য ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি—দুটিই বাড়বে। কারণ আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা শুধু পণ্য নয়… এতে জ্বালানির দামও যুক্ত থাকে।’
এফএওর এই প্রধান সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি, এটি একটি সংকট যা ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। সময় যত এগোচ্ছে, দিন যত পার হচ্ছে, পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে।’