পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুভেন্দু অধিকারীকেই বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। ফলে তিনিই হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টায় কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। কলকাতা ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার (৮ মে) বিজেপির ২০৭ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৮টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল এবং সব প্রস্তাবেই একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।’
এর আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গের জন্য অমিত শাহকে প্রধান পর্যবেক্ষক এবং মোহন চরণ মাঝিকে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তাদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিধায়কদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
এখন বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে শুভেন্দু রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুই ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নাম। কারণ, তিনি টানা ২বার নির্বাচনি লড়াইয়ে মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতাকে হারানোর পর এবার ভবানীপুরেও তার বিরুদ্ধে জয় পেয়েছেন শুভেন্দু। ভবানীপুর আসনে তিনি মমতাকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারান। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামেও জয় ধরে রাখেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতাকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক ঘাঁটিতে পরাজিত করার পর শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবিটি অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে অন্য কাউকে সামনে আনা হলে দলের ভেতরেই অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে বিজেপির অতীত রাজনৈতিক কৌশলের কারণে মুখ্যমন্ত্রী পদে শেষ মুহূর্তে চমক আসতে পারে—এমন আলোচনা ছিল। অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে অপ্রত্যাশিত নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে বিজেপি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই পথে হাঁটেনি দলটি। এবার নিশ্চিত করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করবে বিজেপি।
গত ৪ মে ঘোষিত নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৭টি আসনে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন এবং বাম, কংগ্রেস ও অন্যান্য দল মিলিয়ে পেয়েছে ৬টি আসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, “জোর করে ভোট লুট করে” তাদের হারানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সপ্তদশ অধিবেশনের মেয়াদ ৭ মে শেষ হওয়ার পর বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল। তবে মমতা পদত্যাগ না করায় এক ধরনের সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত কার্যত রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজ্যপালের তত্ত্বাবধানেই রয়েছে।