Friday 15 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আরব দেশগুলোকে নিয়ে ইরানে সমন্বিত হামলার চেষ্টা চালায় আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ মে ২০২৬ ২৩:৪৮ | আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ২৩:৪৯

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলো এতে সাড়া না দেওয়ায় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হয়নি। এতে চরম হতাশ হয় আবুধাবি।

শুক্রবার (১৫ মে) একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পরপরই আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন।

আমিরাত প্রেসিডেন্ট মনে করতেন, ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সামরিক জবাব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অঞ্চলটির বন্দর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহেও বড় চাপ পড়ে।

বিজ্ঞাপন

তবে সৌদি আরব ও কাতার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। একটি সূত্র জানায়, তারা আবুধাবিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—‘এটি তাদের যুদ্ধ নয়।’

এই মতবিরোধের ফলে আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক আরও অবনতি হয়। আমিরাত প্রেসিডেন্ট আলোচনায় স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮১ সালে ইরানের বিপ্লব-পরবর্তী হুমকি মোকাবিলার জন্যই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও অন্য দেশগুলোর অবস্থান বদলায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই টানাপোড়েনের পর গত এপ্রিলের শেষ দিকে আমিরাত তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করে।

মার্চ ও এপ্রিল মাসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলাও চালায় আবুধাবি। একই সঙ্গে জিসিসিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে তারা।

২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকোর্ডের মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকেই আমিরাত ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যুদ্ধবিরতির আগে ইরান আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ৩ হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবও বিভিন্ন মাত্রায় হামলার শিকার হয়। একই সময়ে কাতারের রাস লাফফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্টে হামলার পর দোহাও ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল। সৌদি আরব পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। কাতারও উত্তেজনা কমানোর স্বার্থে সামরিক জবাব থেকে সরে আসে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত আরব হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন অবগত ছিল। পাশাপাশি আমিরাত চেয়েছিল, এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হোক। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করেছিল, সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে ইরান তাদের ভূখণ্ড ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

এদিকে সংকট চলাকালে আমিরাত ও ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ সমন্বয়ে কাজ করেছে। সম্প্রতি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু’র মধ্যে ফোনালাপও হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছেন, ইসরাইল ইতোমধ্যে আমিরাতকে সহায়তা দিতে আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে।