Friday 19 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যুক্তরাজ্যের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১৯ জুন ২০২৬ ০৯:২৩

লেবার পার্টির প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহাম। ছবি: এএফপি।

উত্তর ইংল্যান্ডের বহুল আলোচিত উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়লাভ করেছেন। বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ভবিষ্যত দিনগুলোর জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) প্রকাশিত ভোটের ফলাফলে তিনি প্রায় ২৫,০০০ ভোট পেয়ে রিফর্ম ইউকে’র রবার্ট কেনিয়নকে ৯,০০০-এর বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন।

নিজের বিজয় ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ‘সকলেই জানে যে রাজনীতি কাজ করছে না। আজকের রাতটিই হতে পারে, হয়তো হতে পারে, একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।’

এই জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যেটা প্রয়োজন সেই হাউস অফ কমন্সের আসনটি তিনি নিশ্চিত করলেন।

বিজ্ঞাপন

বার্নহ্যাম তার বিজয় ভাষণে আরও বলেন, ‘আমি আমার নিজের দলকে বলছি, পরিবর্তনের এটাই শেষ সুযোগ। দ্বিতীয় কোনো সুযোগ আসবে না।’

বার্নহ্যাম আগে বলেছিলেন, তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচনের যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান। এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে তার অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে।

লেবার এমপি জশ সাইমন্সের পদত্যাগের কারণে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বার্নহামের বিজয়ের ফলে সম্ভবত স্টারমারের পদত্যাগ আরও দ্রুত হবে, অথবা এমন একটি নেতৃত্বের লড়াই শুরু হবে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বিদায়ী মেয়র এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, সাংসদরা সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে পারেন।

স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানালে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে বার্নহামকে একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত একটি ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বার্নহামকে পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যেখানে স্টারমারের পক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র ১২ শতাংশ।

যদি তিনি স্টারমারের উত্তরসূরি হন, তবে বার্নহাম ২০১৬ সালে দেশটি ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বিপুল বিজয় এনে দেওয়ার পর, তার নেতৃত্বের প্রতি ব্যাপক জন অসন্তোষের কারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলটি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর থেকে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমারের সরকার থেকে বিশজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন অথবা নীতিগত বিষয়ে তার সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন, যার মধ্যে স্ট্রিটিংও রয়েছেন।

স্টারমার পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তার নেতৃত্বের প্রতি যেকোনো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনিবলেছেন, এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ‘দেশের জন্য একটি খারাপ বিষয়’ হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর