গাজা শহরে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সাততলা ভবনটি ধসে পড়ে।
এ ঘটনায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
আল জাজিরার যাচাইকরা ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দলগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের বের করে আনছে। বাসিন্দারা এ সময় খালি হাতেই মাটি খুঁড়ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও যাচাইকরা ফুটেজ অনুযায়ী, সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা যখন জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একটি ছোট মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে এবং আরও কয়েকজন জীবিত ব্যক্তিকেও সেখানে আটকে থাকতে দেখা গেছে। ছোট ছোট শিশু যারা আটকে পড়েছে তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তাদেরকে ধ্বংস্তূপের নিচ থেকে দ্রুত বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র রায়েদ মাহমুদ আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি এই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।’
তিনি জানান, উদ্ধারকারী দলের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব থাকায় মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবনটি এর আগে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছিল। তাই ধসে পড়ার আগেই এটি ফাটল ধরা ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিল।
গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এসব ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েল বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
মাহমুদ জানান, অনেক ফিলিস্তিনি এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। যা তাদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ শরণার্থী কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবুর অভাবে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
এ ছাড়া, ধ্বংসস্তূপ নিরাপদে অপসারণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য সিভিল ডিফেন্স বা জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোর প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের ওপরও ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
সরঞ্জামের এই ঘাটতির ফলে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের মূলত কায়িক শ্রমের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। যার ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ছে।