Wednesday 16 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাশেদ খাঁনকে নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে ট্রাইব্যুনাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৪৪

প্রেস ব্রিফিং। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁনকে নির্যাতনের অভিযোগে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাবেক এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় রাশেদ খাঁনও উপস্থিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রাশেদ খাঁনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তার করা অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত ছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, সরকারবিরোধী মত প্রকাশের কারণে তাকে গ্রেফতার করে ১৫ দিন নির্যাতন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ইশতিয়াক আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন জানান, ২০২৫ সালের ৭ মে ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাসানটেক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে এবং সেখান থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়।

সেখানে ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে হাত ও চোখ বেঁধে এবং মুখে গামছা দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট তাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। একইভাবে ওই সময় আরও অনেক আন্দোলনকারীকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও দাবি তার।

রাশেদ খাঁনের আরও অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইশতিয়াক আহমেদ ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ফুটেজ সংগ্রহ এবং পরে সেগুলো মুছে ফেলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হত্যার প্রমাণ যাতে সংরক্ষিত না থাকে, সে উদ্দেশ্যেই এসব ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন জানান, ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল, তা প্রথমে তিনি জানতেন না। পরে তাকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, তৎকালীন সরকারের নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্ভব ছিল না।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারা জড়িত ছিলেন, আটকের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু এসব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর