স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশে দু’টি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এরইমধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তের পর দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কাস্তিয়া-লা মানচার আঞ্চলিক সরকার।
এর আগে, রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি রেল সংস্থা আইরিওর একটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় যাত্রীদের উদ্ধার করতে কাজ শুরু করে উদ্ধারকর্মীরা।
কাস্তিয়া-লা মানচার আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাডিলা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। এ সময় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্পেনের পরিবহণমন্ত্রী পুয়েন্তে জানিয়েছেন, ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলার সময় ট্রেনটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আইরিওর ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাতক ট্রেনটিকে সামনে এগোনোর অনুমতি না দিয়ে লাল সংকেত দেখানো হয়েছিল। এরপরও কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো, তা ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক দেশটির পরিবহণ অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯৯২ সালে এ ব্যবস্থার যাত্রা শুরুর পর থেকে রেলপথের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কিলোমিটার দ্রুতগতির রেলপথ রয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্কগুলোর একটি। তবে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো রেল চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর দেশটির রেলব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে সংকেত ও যোগাযোগব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে ট্রেন চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কাজ না করলে বিকল্প ব্যবস্থা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দুর্ঘটনার আগে ও পরে রেল নিয়ন্ত্রণকক্ষে কী ঘটেছিল, ট্রেন না থেমে কেন দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটিকে ধাক্কা মারল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় দায় কার তা জানা যাবে।