চট্টগ্রাম ব্যুরো: ১৯ বছর আগে কক্সবাজারে এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় করা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত আরও চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটি কক্সবাজার থেকে বিচারের জন্য চট্টগ্রামের আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জানিয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ্য জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এরশাদুল হাবিব রুবেলকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডিতরা হলেন- জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ, আবু এরশাদ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। এদের মধ্যে শুধুমাত্র জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ কারাগারে আছেন। এ ছাড়া, আজহারুল ইসলাম ছোটন, তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ ও মোহাম্মদ সৈয়দকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রুবেল রিকশায় করে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ বাজার থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কান্দাইল্যা পাড়া এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রুবেলের মা ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর কুতুবদিয়া থানায় ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রথমে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। কিন্তু আসামিদের প্রভাবের কারণে সাক্ষ্যগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হলে সেটি বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। চট্টগ্রামে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে এ রায় দেওয়া হয়েছে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত রুবেল ও আসামিরা পরস্পরের প্রতিবেশী। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেন আসামিরা।
রায়ে চার আসামিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। হাজতে থাকা আসামি জাহেদুল ইসলাম ফরহাদকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া, পলাতক তিন আসামির বিরুদ্ধে সাজামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। আপিলের জন্য দণ্ডিতদের সাতদিন সময় দিয়েছেন আদালত।