Sunday 11 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্ট

স্টাফ করেসপন্ডেট
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৮ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:২০

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: মুসলিম আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে আইনত বৈধ থাকলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের প্রেক্ষাপটে এতোদিন সেটি অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হতো। এবার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করার পক্ষে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১১ জানুয়ারি) মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানায়, মুসলিম পারিবারিক আইনে কোথাও সরাসরি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীর সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ নেই। তাই দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন

২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়, ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১’ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষকে অবশ্যই আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এই আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়াকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে যে ধারণা প্রচলিত ছিল—স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, তা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও রায়ে মন্তব্য করা হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রণয়ন করা হলে নারীর ক্ষেত্রে ওই শাস্তির বিধান বহাল থাকে। তবে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির অধীন আনা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের দাবি আদালতের এ সিদ্ধান্ত বহুবিবাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান তারা।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক সক্ষমতা কিংবা সামাজিক ও মানসিক প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে। এ কারণে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ালে তা আইন ও সমাজে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর