Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আইনজীবী আলিফ খুনের মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দিলেন বাবা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৪ | আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৫

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথমদিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে বাদীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর আংশিক জেরাও হয়েছে।

কারাগারে থাকা মামলার ২৩ আসামির মধ্যে ২২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আসামি ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পিপি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, মামলার বাদীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর একজন আসামি অজয় দাশের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত একজন আইনজীবী তাকে জেরা করেন। আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে তার আইনজীবী জেরার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ধার্য করেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৯ জানুয়ারি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মামলার ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ১৬ জন এখনো পলাতক আছেন।

নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি খুন হন।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক ও সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টি করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিনঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত প্রাঙ্গনের অদূরে নগরীর বাণ্ডেল সেবক কলোনির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এরপর ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানিতে আদালত মামলা থেকে একজন আসামির অব্যাহতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ নাকচ করেন। এর ফলে ওই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ জনে।

চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।

বিজ্ঞাপন

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়ল
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২০

হানিয়া ও ইয়াসিরের প্রাণবন্ত আড্ডা
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৯

আরো

সম্পর্কিত খবর