ঢাকা: আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দ্রুতগতিতে বিচার হলেও আমরা হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে আটকে যাচ্ছি। ডেথ পেনাল্টির পেপারও রেডি হয় না বছরের পর বছর। সেটা সমাধানের পথও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘লিগ্যাল রিপ্রেজেন্টেশন ইন ডেথ পেনাল্টি কেসেস ইন বাংলাদেশ: অ্যান ইম্পাইরিক্যাল অ্যান্ড কনসেপ্টুয়াল অ্যানালাসিস’ শিরোনামে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি ডেথ পেনাল্টির বিরোধী। এটা আমার মানবাধিকারের প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তারপরেও কিছু কথা থেকে যায়। যখন দেখি আট বছরের একটা শিশুকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেও শান্ত হয়নি; তার যৌনাঙ্গ কেটে ফেলে, পানি দিয়ে ধুয়ে সমস্ত প্রকার আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে, তখন এই সমাজের একজন অংশ হিসেবে, মানুষ হিসেবে আমারও মনে হয় এদের বিচার কেন প্রয়োজন? যে নিজেই স্বীকার করছে যে, এরকম একটি অপরাধ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘সামাজিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি না। যখন দেখি মাগুরার আসিয়ার এক অবস্থা, যখন দেখি সাড়ে তিন বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে, তখন যদি সমাজ থেকে প্রতিবাদ আসে, এদের ফাঁসি চায় এবং সেই প্রতিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলার মত সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আইনি বাস্তবতা থাকে না এবং নৈতিক বাস্তবতাও সেখানে মাথা নত করে। এটা হলো আমাদের বাস্তবতার জায়গা।’
রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ডের পরে ৭ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আসামিকে গ্রেফতার করিয়েছি। ২৪ মে দুপুরবেলা চার্জশিট সাবমিট হয়েছে। সর্বশেষ আমরা ছয় কার্যদিবসে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করেছি। আসিয়ার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। আরও কয়েকটি ঘটনা এরকম ঘটেছে। কিন্তু, আমাদের সমস্যা হলো আমরা হাইকোর্ট ডিভিশন এবং আপিল ডিভিশনে গিয়ে বছরের পর বছর আটকে যাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক প্রমুখ।