ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে পারেননি। ফলে আদালত নতুন করে ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ ও নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উদ্দেশে রওনা দেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার বহনকারী অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর এবং ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হামলার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাটি চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।