ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে অবৈধ প্রভাব খাঁটিয়ে ৪১টি বেসরকারি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে ২৭৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে মামলাটি রুজু করা হয়। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদকে নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রি করা দলিল মূলে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠিত হয়, যার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে সমাজসেবা অধিদফতর কিংবা এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ট্রাস্টটির নাম ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সামাজিক কার্যক্রম না করেই ব্যাংকগুলো থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএবির সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্বাহী কমিটির সভার এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ৪১টি ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে সিএসআর ফান্ডের অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এভাবে অবৈধ প্রভাবে সংগৃহীত বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৩
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৩
সারাবাংলা/এনএল/এআর