ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ইতোমধ্যে চারজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের কথা রয়েছে। সাক্ষীরা পর্যায়ক্রমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করছেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শহিদ রাসেলের বাবা তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন।
মামলার ১২ আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক। শামীম ওসমান ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু এবং ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।
এর আগে, গত ১৩ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে ১০ জুন সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড ও ফতুল্লা এলাকার বিভিন্ন স্থানে কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাকশ্রমিক রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিব হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর তৃতীয় অভিযোগে গত বছরের ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।