Wednesday 23 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:০৬

সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলন।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর পাংশায় কাতারপ্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় মিলন শেখ (২৭) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিলন শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন শেখ পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুছিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব আলী খান।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে কাতারপ্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুন দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে দেড় বছর বয়সি ছোটো ভাইয়ের কান্নায় রুনার ১০ বছর বয়সি মেয়ে উম্মে সিনহার ঘুম ভেঙে যায়।

এ সময় উম্মে সিনহা দেখতে পায়, তার মা বিছানায় নেই। পরে বারান্দায় গিয়ে সে প্রতিবেশী মিলন শেখকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এরপর বাড়ির উঠানে পা বাঁধা অবস্থায় রুনা খাতুনকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে সে। তখন মিলনসহ আরও দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রুনা খাতুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহত রুনার বড়ো ভাই মো. রায়হান শেখ বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৯৪/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে পুলিশ মিলন শেখসহ একই গ্রামের তেসেম সরদার (১৬) ও রিয়াজ জোয়ার্দার (১৫) নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে রুনার ছিনতাই হওয়া মোবাইলফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। পরে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামির বিচার নারী ও শিশু আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, ‘মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে। তিন আসামির মধ্যে দুইজন নাবালক হওয়ায় তাদের বিচার নারী ও শিশু আদালতে চলছে। প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মিলনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আইনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান। তিনি দাবি করেন, তার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ। পুলিশের নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতেই আদালত সাজা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে আইনজীবী জানান, রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত হাইকোর্টে আপিল করা হবে।

বিজ্ঞাপন

গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৪

আরো

সম্পর্কিত খবর