ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ শুনানির মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগোবে।
রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আজ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর এ শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য ১ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনাসহ মামলার বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস এবং সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
পলাতক আসামিদের তালিকায় সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ। এ ছাড়া সাবেক র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের সাবেক ও তৎকালীন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ তালিকায় রয়েছেন।
পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এডিসি এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলী।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রসিকিউশনের কাছে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) জমা দেয়।
পরে ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ না করায় ওই ৩০ আসামিকে পলাতক ঘোষণা করে তাদের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেফতার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় মোট দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আনা হয়েছে।