ঢাকা: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যালট পেপারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারি মুদ্রণালয় থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী পরিবহন ও সংরক্ষণে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
ব্যালট পেপার গ্রহণে কঠোর নিয়ম
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজি প্রেস, গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ব্যালট পেপার সংগ্রহের সময় রিটার্নিং অফিসারকে অবশ্যই একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবং একজন প্রতিনিধি পাঠাতে হবে। তাদের সঙ্গে থাকতে হবে রিটার্নিং অফিসারের লিখিত ক্ষমতাপত্র।
প্রেস থেকে ব্যালট গ্রহণের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও ভোটার সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার ‘ফরম-৫’ সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোপনীয়তা
পরিপত্রে বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছানো পর্যন্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে; ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল ও অফিসিয়াল সিলের গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করতে হবে।
ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট মুদ্রণ ও প্রেরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের জন্য ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজও চলমান। অমোচনীয় কালির কলম, স্ট্যাম্প প্যাডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানো
ভোটগ্রহণের আগের দিন নির্ধারিত সময়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি মালামাল গ্রহণ করবেন। ওই দিনই নিরাপত্তার সঙ্গে সব কেন্দ্রে সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অসংগতি দেখা দিলে তা দ্রুত ইসি সচিবালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে মালামাল সংগ্রহ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বল পয়েন্ট কলম, কাগজ, প্লেকার্ডসহ কিছু মনিহারি দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ বা মুদ্রণ করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এই খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।