Monday 12 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংস্কার প্রতিরোধক অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৬ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৯

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের নামে যতটুকু করেছে তার প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বাস্তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। সংস্কার প্রতিরোধক মহল অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে সরকার। এ ছাড়া জুলাই সনদকে যুক্তিহীনভাবে লঙ্ঘনের মাধ্যমে নেতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করে পরবর্তী সরকারকে উৎসাহ দিয়েছে সরকার।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস ভবনে আয়োজিত “অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ৮টি বিষয়ে অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ থেকেও আমলাতন্ত্র অনেক শক্তিশালী। তাই উপদেষ্টা পরিষদ চাইলেও কোনো কিছু পাস করা খুবই কঠিন।

তিনি বলেন, সংস্কারের জন্য খাত বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণে কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে, এমন বিবেচনার সুযোগ নেই। ১১টি কমিশন ও কমিটিসমূহের বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্য অনেক খাত, যেমন শিক্ষা, কৃষি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত কোন যুক্তিতে বাদ পড়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার একতরফাভাবে অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খসরা অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য লোক দেখানোভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দায় কাটানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি অধ্যাদেশসমূহের প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের তুলনায় আমলাতন্ত্রসহ ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্বের চর্চা অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, স্বাধীন পুলিশ কমিশনের স্বপ্ন সম্পূর্ণ ভাবে ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে। লোক দেখানো এ অধ্যাদেশে এমন অনেক উপাদান রয়েছে যে এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত তথাকথিত পুলিশ কমিশন অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ও পুলিশ আমলাদের ক্ষমতার অব্যাহত অপব্যবহারের রিসোর্ট ছাড়া আর কিছুই হবে না। সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে উল্লেখযোগ্য যুগোপযোগী ইতিবাচক বিধান থাকলেও প্রতিটিতে নিজস্ব আঙ্গিকে ও সামষ্টিকভাবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কোনো প্রকার বিচারিক সুরক্ষা ছাড়া জবাবদিহিহীনভাবে বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের আইনগত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনের চেয়ারপার্সন ও সদস্য নিয়োগের বাছাই কমিটির গঠন ও কর্মপদ্ধতি পরিপূর্ণভাবে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে। ফলে কমিশন গঠন ও কাজে ক্ষমতাসীন সরকারের পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দুদক অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিষয়ে তিনি বলেন, দুদক সংস্কার কমিশনের আশু করণীয় সুপারিশমালা সরকার বা দুদকের নিকট প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। অন্যদিকে অন্য কোনো অংশীজনকে সম্পৃক্ত না করে দুদক ও সরকারি আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র কর্তৃত্বে দুদকের পরিপূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশের কারণে, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার বাছাই কমিটির কার্যকরতা হ্রাস পেয়েছে এবং সরকারি দলের প্রভাব জোরদার করা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ কাঠামো এবং বিষয়বস্তু এখনো আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অপরাধ ও দণ্ড ধারা ২৬ (১) ও (২) সংক্রান্ত অপরাধ বিশেষ করে সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশে জেল জরিমানার অপব্যবহারের শংকা রয়েছে। তাছাড়া, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (ধারা ৫) পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকায় কনটেন্ট ব্লকিং এর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠবে। এছাড়া, সরকারের বাইরে অংশীজনের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব না থাকার শংকা এবং পুরো জাতিকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও স্বার্থেও দ্বন্ধের ঝুঁকি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাসকিনের হঠাৎ কি হলো?
১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৭

আরো

সম্পর্কিত খবর