ঢাকা: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি (রাজনৈতিক বিষয়ক) অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। সব কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, পূর্বে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হালনাগাদ করে এসব অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে, বিশেষ করে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশা তারা করছে।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড নীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১) ভিসা বন্ডের আওতার বাইরে রাখার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে অ্যালিসন হুকার বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ‘ওভারস্টে’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ভিসা বন্ড সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় দাতা উল্লেখ করে তিনি এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এ সময় অ্যালিসন হুকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের ওপর পড়া বিশাল দায়ভার বহনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত দায় ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের জন্য ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি) অর্থায়ন এবং দেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
এছাড়া গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান অ্যালিসন হুকার।
এদিকে, পৃথক বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী (ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ) মাইকেল জে. রিগাস তাকে শপথ পাঠ করান।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর যাত্রায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। নির্বাচনের ফলাফল দেখতে আমি আগ্রহী এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই।’
এ ছাড়া গত ১২ জানুয়ারি ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শন করেন। সেখানে কনসাল জেনারেল আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে বৃহত্তর নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
কনসাল জেনারেল জানান, ভোটারদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং গণভোট সংক্রান্ত তথ্য প্রচারে কনস্যুলেট নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।