Friday 16 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খালেদা জিয়া আত্মত্যাগী ও দেশপ্রেমিক ছিলেন: আসিফ নজরুল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৩

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আত্মত্যাগী, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেত্রী। তার ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে এমন কিছু অসাধারণ গুণাবলি ছিল, যা আজকের বাংলাদেশে গভীরভাবে আত্মস্থ করা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শোকসভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্রে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল। তিনি ছিলেন পরমতসহিষ্ণু, দৃঢ়চেতা এবং নীতির প্রশ্নে আপসহীন। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্যের মতামতকে সম্মান করতে জানতেন। তার এই গুণাবলী বর্তমান রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে হলে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে খালেদা জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক আচরণকে আত্মস্থ করতে হবে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন এবং কারাবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন তার পক্ষে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কথা বলার সুযোগ তার নিজের হয়েছিল। কিন্তু সে সময় লক্ষ্য করা গেছে, তার পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলার মতো মানুষ পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। ভয়, আতঙ্ক এবং দমন-পীড়নের কারণে অনেকেই নিরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কার্যত একা করে দেওয়া হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল বলেন, তার বিরুদ্ধে যে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে, তা ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত ও নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ওই বিচার ছিল উদ্ভট এবং আইনগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল। সেই মামলায় অন্য পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে খালেদা জিয়া নিজেই গভীরভাবে ব্যাথিত হয়েছিলেন। বিস্ময় ও বেদনায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ এই বাক্যটি ছিল একজন মানুষের অসহায় বিস্ময়ের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিচারক সেই বক্তব্যকে এমনভাবে লিপিবদ্ধ করেন, যেন তিনি নিজেই অপরাধ স্বীকার করেছেন।

আইনের ছাত্র হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, তার দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও পেশাগত জীবনে তিনি এমন জঘন্য বিচার খুব কমই দেখেছেন। তিনি জানান, এই বিচারের প্রতিবাদে তিনি বিবৃতি লেখেন এবং তা প্রকাশের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু হাইকোর্টে কী করবেন বা কী করবেন না—এই ভয় ও শঙ্কার কারণে চারজনের বেশি মানুষ সেই বিবৃতিতে সই দিতে রাজি হননি। চারজনের কম সইয়ের বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা পত্রিকায় ছাপানো যায়নি। এই অভিজ্ঞতা তার কাছে দেশের বিচারব্যবস্থা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি করুণ চিত্র তুলে ধরে।

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে মানুষ আবার স্বাধীনভাবে ঘৃণা প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এই স্বাধীনতা কোনো একদিনে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস। তিনি বলেন, এই বাস্তবতার কারণেই একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মানুষের ভালোবাসা ও ঘৃণার জায়গা নির্ধারণ করে দেয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর