ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন । মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে দেশের ২৯৮টি আসনে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বিষয়টি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে এসব প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার কাজ শুরু করছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় প্রতীকে এবং ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন। তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ২৭ জানুয়ারির পর এই তালিকার সঙ্গে যুক্ত হবে।
এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৮৮ জন প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে বিএনপি (ধানের শীষ)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যার বিচারে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও একক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৪ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব ৪২ জন, বাসদ ৩৯ জন, এবি পার্টি ৩০ জন এবং খেলাফত মজলিস ২১ জন প্রার্থী দিয়েছে। কিছু ছোট দল ও নতুন নিবন্ধিত দলগুলোও ১ থেকে ২০ জন পর্যন্ত প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে আছে।
দলভিত্তিক প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা
বড় দল ও জোট: বিএনপি (২৮৮), ইসলামী আন্দোলন (২৫৩), জামায়াতে ইসলামী (২২৪), জাতীয় পার্টি (১৯২), গণঅধিকার পরিষদ (৯০), সিপিবি (৬৫), ইনসানিয়াত বিপ্লব (৪২), বাসদ (৩৯), খেলাফত মজলিস (৩৪), এবি পার্টি (৩০), এনসিপি (৩২)।
মাঝারি ও ক্ষুদ্র দল: বিএসপি (১৯), গণফোরাম (১৯), জেএসডি (২৬), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (২৬), এনপিপি (২৩), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (১৯), বিএমজেপি (৮), নাগরিক ঐক্য (১১), জাসদ (৬)।
অন্যান্য: এছাড়াও জাকের পার্টি, মুসলিম লীগ, এলডিপি, বিআরপি এবং অন্যান্য আরও বেশ কিছু দল ১ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
যারা নির্বাচনি লড়াইয়ের বাইরে
এবারের নির্বাচনে বড় পরিবর্তন হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া আরও ৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবারের ভোট থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএম।
নির্বাচনি পথপরিক্রমা ও ভোটার সংখ্যা
১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তাতে মোট ৩ হাজার ৪১৭ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে গত ২০ জানুয়ারি ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। অবশিষ্ট ১৯৮১ জন প্রার্থীকে গতকাল বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী, গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ৩ হাজার ৪১৭ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন সরে দাঁড়ালে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পৌনে ১৩ কোটি ভোটার একই সঙ্গে সংসদের নতুন প্রতিনিধি নির্বাচন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটে তাদের রায় দেবেন।