Thursday 22 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রথমবারের মতো অনলাইন প্রচারে নামছেন প্রার্থীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৬

ঢাকা: এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হতেই প্রার্থীরা ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে এই ডিজিটাল প্রচারকে সুশৃঙ্খল রাখতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে।

ডিজিটাল প্রচারে ইসির ‘রেড লাইন’

নির্বাচন কমিশন জানায়, কোনো প্রার্থী বা তার এজেন্টরা অনলাইনে প্রচার কাজ চালাতে পারলেও তার আগে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি এবং ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এছাড়া ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলোতে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে:

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে মানতে হবে যে-সব নির্দেশনা:

  • নির্চবাচনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা যাবে না;
  • ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচনসংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ সব ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট বানানো ও প্রচার করা যাবে না।
  • প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনি স্বার্থ হাসিল করবার জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত সব কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করার পূর্বে সত্যতা যাচাই করতে হবে।
  • রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করবার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদন (Edit) করে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা Artificial Intelligence (AI) দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো আধেয় (content) তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করতে পারবেন না।
  • গুজব ও এআই অপব্যবহার বন্ধে নির্বাচনি অপরাধ বিবেচনায় শাস্তির বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে এবার নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

কেন এবার ডিজিটাল প্রচারে জোর?

ইসির নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, এবারই প্রথম নির্বাচনি মাঠে কোনো ধরনের কাগজের পোস্টার লাগানো যাবে না। এছাড়া ড্রোন ব্যবহারের ওপরও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ডিজিটাল মাধ্যমই প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক প্রার্থী এরই মধ্যে পেশাদার ডিজিটাল মার্কেটিং টিম নিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।

নজরদারিতে ইসির বিশেষ সেল

অনলাইন প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে এবার নির্বাচন কমিশনে একটি বিশেষ টেকনিক্যাল সেল গঠন করা হয়েছে। বিটিআরসি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় প্রার্থীরা আচরণবিধি মানছেন কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ডিজিটাল অপরাধের জন্য আরপিও’র নতুন ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, পোস্টারবিহীন এই নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারের ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে ঠিকই, তবে অনলাইনে গুজব ঠেকানোই হবে নির্বাচন কমিশনের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

একনজরে নির্বাচনি প্রচারের সময়সীমা:

  • প্রচারণা শুরু: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল থেকে
  • শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল সাড়ে ৭টা
  • ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর