ঢাকা: বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ এবং এর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শীর্ষে আছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে “নির্বাচনি হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি ২০২৬” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নবম ও দশম নির্বাচনে ঋণগ্রস্ত প্রার্থী ছিল ১০ শতাংশ, যা ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে এটি হয়েছে ৪০ শতাংশ। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ নির্বাচনে বেড়ে ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ শতাংশে।
টিআইবি বলেছে, এই ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ব্যাংক ঋণ (১৭ হাজার ৪৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর ৫৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ ব্যক্তিগত ও অন্যান্য ঋণ (১ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে একক ঋণ ৬১ শতাংশ, কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে ১৭ শতাংশ, নির্ভরশীল ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ শতাংশ।
রাজনৈতিক দলভিত্তিক প্রার্থীদের ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩২.৭৯ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ২৬.৯৭ শতাংশ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২.২৬ শতাংশ, এবি পার্টি ১৯.২৩ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৬.৭৯ শতাংশ, গণঅধিকার পরিষদ ১৩.৪০ শতাংশ, খেলাফত মজলিস ১২.৬৮ শতাংশ, ১০.৫৯ শতাংশ।
ঋণগ্রস্থদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জন হলেন- ৩১৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নিয়ে এস এ কে একরামুজ্জামান (স্বতন্ত্র প্রার্থী), ২০৪১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা নিয়ে এস এম ফয়সাল (বিএনপি প্রার্থী), ১৪৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা নিয়ে খালেদ হোসেন মাহবুব (বিএনপি প্রার্থী), ১৩৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে আফরোজা খানম (বিএনপি প্রার্থী), ১১১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা নিয়ে মো. আব্দুল্লাহ (বিএনপি প্রার্থী), ৮৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর (বিএনপি প্রার্থী), ৮২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নিয়ে মো. শাহ আলম (স্বতন্ত্র প্রার্থী), ৭৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা নিয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম (বিএনপি প্রার্থী), ৬৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা নিয়ে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (বিএনপি প্রার্থী) এবং ৬৯৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা নিয়ে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (বিএনপি প্রার্থী)।