ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটগ্রহণের দিনের জন্য কঠোর পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রর ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা সমর্থক নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। সেসঙ্গে এই সীমানার ভেতর সব ধরনের প্রচার-প্রচারণাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন সই করা এই পরিপত্রটি ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
গোপন কক্ষ বৃদ্ধি ও গোপনীয়তা রক্ষা
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটারদের ভোটাধিকারের গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক গোপন কক্ষ বা ‘মার্কিং প্লেস’ স্থাপন করতে হবে। কক্ষগুলো এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন ভোট দেওয়ার সময় বাইরে থেকে কেউ ভোটারের পছন্দ দেখতে না পারে। এমনকি ভোটকক্ষে কোনো জানালা বা উন্মুক্ত স্থান থাকলে তাও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এ কারণে প্রতিটি ভোটকক্ষে সম্ভব হলে দুটি করে গোপন কক্ষ অথবা অতিরিক্ত ভোটকক্ষ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও বিকল্প আলোর ব্যবস্থা
ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় প্রতিটি কেন্দ্রে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা (মোমবাতি/চার্জার লাইট/জেনারেটর) রাখতে হবে।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ছাড়া অন্য কোনো বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। ভোট চলাকালীন কোনো বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে সেটি বিশেষ ‘পঞ্চম লক’ দিয়ে সিল করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নতুন বাক্স স্থাপন করতে হবে।
যানবাহন ও প্রচারণায় বিধিনিষেধ
ভোটের দিন কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য নিজস্ব কোনো যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ছাড়া ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে থাকা সকল পোস্টার, লিফলেট বা প্রচারপত্র সরিয়ে ফেলতে প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট শুরু সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে
ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। কোনো অবস্থাতেই ভোট শুরু করতে বিলম্ব করা যাবে না। ব্যালট পেপার দেওয়ার সময় তার পেছনে অফিসিয়াল সিল ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিকেলের দিকে ভোটারদের চাপ বাড়তে পারে বিধায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে ইসি।