Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মোজতবা খামেনি অল্পের জন্য ‘বেঁচে গেছেন’

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। তবে এ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড থেকে জানা গেছে, বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজে ভবনের বাইরে পা রাখায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

অডিও রেকর্ডে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলার রোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ও তার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা নিহত হন। হামলায় ইরানের সামরিক প্রধানের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে ‘কয়েক কেজি মাংসে’ পরিণত হয় এবং খামেনির এক জামাতার মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি

দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, রেকর্ডটি নিহত আলী খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেনির। গত ১২ মার্চ তেহরানে এক বৈঠকে তিনি এ বর্ণনা দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি পরিবার ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে একসঙ্গে নির্মূল করার এক সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে খামেনির ওই কম্পাউন্ডে (বাসভবন) হামলা চালানো হয়।

মাজাহের হোসেনি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯:৩২ মিনিটে হামলার ঠিক আগমুহূর্তে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি উঠানে বের হয়েছিলেন ও আবারও ওপরে যাওয়ার সময় ভবনটিতে আঘাত হানা হয়। এতে তিনি পায়ে সামান্য আঘাত পেলেও বেঁচে যান। তবে হামলায় তার স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেল ও তাদের ছেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হন।

রেকর্ডিংয়ে ফারসি ভাষায় হোসেইনি বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছাই ছিল যে মোজতবাকে উঠানে গিয়ে কিছু একটা করতে হবে এবং তারপর ফিরে আসতে হবে। তিনি বাইরে ছিলেন এবং সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছিলেন, এমন সময় তারা ভবনটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।’

হামলার নৃশংস বর্ণনা

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্য ছেলে মোস্তফা খামেনিও হামলার সময় কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।

হোসেনি জানান, ওই হামলা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ইরানের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ শিরাজির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তাকে শনাক্ত করার জন্য শুধু ‘কয়েক কেজি মাংস’ অবশিষ্ট ছিল। এ ছাড়া খামেনির জামাতা মেসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানির দেহ পাওয়ার সময় দেখা যায়, তার মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে আছে।

হোসেনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খামেনি পরিবারের সদস্যদের থাকার জায়গাসহ ওই কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে একই সঙ্গে একাধিক হামলা চালানো হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর