চট্টগ্রাম ব্যুরো: গণভোট নিয়ে ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার বলেছেন, এটি কারও মাথা থেকে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে গণভোট নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোটের প্রতিটি ধাপ রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে গণভোটের বিষয়বস্তু অনেক মানুষের কাছেই এখনো পরিষ্কার নয়। এমনকি শিক্ষিত ও জ্ঞানীগুণী মহলের মাঝেও বিভ্রান্তি রয়েছে।’
গণভোট কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফল। এটি কারও মাথা থেকে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। যারা গণভোটকে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করছে, তারা হয় প্রক্রিয়াটি জানে না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞ মহলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গণভোটের প্রশ্ন ও কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।’
‘এটি কোনো দলীয় স্বার্থের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রকে একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক পথে নেওয়ার সম্মিলিত প্রয়াস। গণভোট মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই এই গণভোট তারই প্রমাণ।’
গণভোট অতীতের ভুল শোধরানোর ঐতিহাসিক সুযোগ উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোট মানে সরকার বদল নয় গণভোট মানে রাষ্ট্রের দর্শন ঠিক করা। গণভোটের প্রশ্নটি রাজনীতির নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির প্রশ্ন, ইতিহাস আর ক্ষমা করবে না যদি এই সুযোগও হাতছাড়া করা হয়।’
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আইয়ুব ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ চবি শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া ও আহত চবি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শুভ হোসেন।