ঢাকা: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের নামে অর্থ দাবির অভিযোগে ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডি সেবায় অনিয়মের দায়ে কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে সই করেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
জানা গেছে, জন্মতারিখ ১০ বছর কমানোর জন্য এক আবেদনকারীকে শুনানিতে ডেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন মো. মাহফুজুর রহমান। পরবর্তী সময়ে দর-কষাকষির মাধ্যমে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তবে আবেদনকারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাহফুজুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবেদনটি বাতিল করে দেন।
ভুক্তভোগী আবেদনকারী অবৈধ অর্থ দাবির অডিও রেকর্ডসহ নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় অডিও রেকর্ডের কণ্ঠস্বর মাহফুজুর রহমানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রাথমিক ও বিভাগীয় তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এনআইডি সংশোধনের সরকারি নির্দেশনা অমান্য এবং অনৈতিক লেনদেনের চেষ্টা চালিয়ে তিনি চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এনআইডি সেবায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কঠোর বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।