Tuesday 10 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইতিহাসের সেরা নির্বাচন, কারও সাধ্য নাই ঠেকানোর: আইজিপি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৮ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৭

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম।

ঢাকা: এবারের নির্বাচন ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। এই নির্বাচন কারও ঠেকানোর সাধ্য নাই। সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে পুলিশ সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় পুলিশ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নানান প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ফ্যাসিস্ট র‌্যাজিমের কিছুটা হুমকি রয়েছে দলীয় ব্যাপার, তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সারাদেশের থানাগুলোতে ২৭ হাজার ৯৯৫টি লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা হয়েছে। আরও কিছু অস্ত্র জমা হওয়া বাকি আছে। কেউ যদি জমা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে ধরে নেওয়া হবে তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন তা নিয়ে কাজ করছে।’

বিজ্ঞাপন

‘পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে। সবার একটাই উদ্দেশ্য একটা ভালো নির্বাচন করা। আগের দিন নাই যে মুখে একটা আর কাজে আরেকটা। এবার যা কথা তাই কাজ। সবাই এক হয়ে কাজ করা। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ যাতে উৎসব মুখর হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৭ হাজারের মতো। তবে আমরা সবগুলো কেন্দ্র বিবেচনায় ব্যবস্থা নিয়েছি। অতি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সব বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।’

সম্প্রতি শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিক দেখার পরও বেধরক পিটিয়েছে। জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশে এখনো পুরনো ফোর্সই রয়েছে। রি্ট্রেইন্ড করার চেষ্টা ছিল। ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট র‌্যাজিমের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল এসব পুলিশ। ১৫ বছরের বদ অভ্যাস এক বছরে শুধরানো সম্ভব হয়নি। অন্তত ১০ বছর কাজ করলে হয়তো এখান থেকে বের হওয়া সম্ভব। এরপরেও আমরা অনেক পুলিশ সদস্যকে রিট্রেইন্ড করেছি। তারা ভালো কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ভালো পুলিশিং করার জন্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশের ধৈর্য দেখেছেন। এরপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে কতদিন। পুলিশকে মেরেছে তবুও পালটা আঘাত করা হয়নি। আমাদের দুর্বলতা আছে এরপরও আমরা চেষ্টা করছি।’

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন দেশের বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনায় এখনো কতগুলো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং সেগুলো আসন্ন নির্বাচনে কি প্রভাব ফেলতে পারে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘এখনো ১ হাজার ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ব্যক্তিগত অস্ত্র এখনো ১ হাজারের মতো উদ্ধার হয়নি। যেকোনো অস্ত্রই থ্রেড। এরপরও বলছি এবারের যে কমিটমেন্ট সকল প্রশাসনের। সর্বকালের সবচেয়ে ভালো ইলেকশন করতে চায় সবাই। সরকারের কমিটমেন্ট। একটা ভালো নির্বাচন করার।’

কি এমন থ্রেড আছে যে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে এক লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য ও ৬ লাখ আনসার সঙ্গে দুই লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে? জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘কোনো থ্রেড না। সবাই চায় একটা ভালো নির্বাচন করা। ফ্যাসিস্ট যে র‌্যাজিম আছে তারা নিজেরাই ডিমরালাইজড। এরপর কেউ কিছু করতে চাইলে তা মোকাবিলা করা হবে। কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারে যে নির্বাচন আংশিক হলেও ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে। এর কোনো সুযোগ রাখা হবে না।’

পুলিশ কি ভোটের মাঠে নিরপেক্ষ থাকবে? অনেকের অভিযোগ যে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে? তাহলে পুলিশ কি আদৌ নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবে কিনা? জানতে চাইলে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, ‘জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি। আমরা নিরপেক্ষ কিনা? দেখতে পারবেন। এরপরেও দুয়েকজন দুষ্ট প্রকৃতির কেউ ত্রুটি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সারাদেশের কারাগার থেকে ৫ আগস্ট ভয়ঙ্কর কিছু অপরাধী বের হয়ে গেছে যাদের এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এবং এর মধ্যে কেউ কেউ উগ্রবাদীও রয়েছে। আবার কিছু শ্যুটারও রয়েছে। তারা নির্বাচনের দিন কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় সারাদেশে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ঘটনা ওখানেই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত কিছু অপরাধী পালিয়ে গেলেও পুলিশ সজাগ রয়েছে। তারাই উলটো দৌড়ের ওপর আছে। কাজেই নির্বাচনে তাদের প্রভাব পড়বে না।’

আইজিপি বলেন, ‘যতজন অপরাধী বাইরে থাকুক না কেন নির্বাচন ঠেকানোর মতো কারও সাধ্য নাই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসবে। পুলিশ সংস্কারের জন্য নতুন সরকারের্ কাছে আপনাদের কি প্রত্যাশা বা সুপারিশ করবেন জানতে চাইলে পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ কমিশনের সুপারিশগুলো যাতে বাস্তবায়ন করা হয় সেগুলো নতুন সরকারের কাছে এড্রেস করা হবে। তবে সংস্কার নিয়ে কমিশনের মানসিকতার ঘাটতি ছিল। কিভাবে এটি হয়েছে তা জানা নেই। নতুন সরকার চাইলে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।

সারাবাংলা/ইউজে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর