Monday 02 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে খাল পরিষ্কার ও গভীরতা বাড়াতে হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২ মার্চ ২০২৬ ১৪:২৩

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

ঢাকা: রাজধানীতে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে পর্যায়ক্রমে খালগুলো পরিষ্কার করতে হবে এবং এই খালগুলোর গভীরতা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন বলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরের প্যারিস খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

প্যারিস খালে বারবার অভিযানের পরও দেখা গেছে ৪০ ফুট প্রস্থের জায়গায় এখন ১০ ফুটও নাই, বেশিরভাগ দখল হয়ে গেছে – এ বিষয়ে আপনারা কি পদক্ষেপ নিবেন প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট খাল খনন করতে চাই। তারই ধারাবাহিকতায় আমার এই ঢাকা ১৬ আসনে বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আমার প্যারিস খাল দিয়ে শুরু করব।

বিজ্ঞাপন

‘আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে এখানে অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। রাস্তা দিয়ে মানুষ হাঁটাচলা করতে পারে না। প্রায় কোমর পরিমাণ পর্যন্ত পানি জমে যায়। এগুলোর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে আমরা যদি খালগুলোকে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি পরিষ্কার করতে পারি এটার গভীরতা যদি নিশ্চিত করতে পারি তাহলেই বৃষ্টি হলেই যে পানিটা জমে যায় রাস্তায় সেটা আর জমবে না।’

তিনি বলেন, এই খালগুলোকে স্থায়ীভাবে পরিষ্কার করে যাতে একই জিনিস বারবার করতে না হয়। স্থায়ীভাবে পরিষ্কার করে কিভাবে এটাকে একটা সৌন্দর্য বন্ধন করা যায়। ঢাকাসহ বাংলাদেশের সকল খালগুলোকে আমরা সংরক্ষণ করব। কোথাও দখল হয়ে থাকে সেগুলোকে আমরা দখলমুক্ত করব।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন পরে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে যিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। জনগণের কাছে কিন্তু আমামদের একটা দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা এই কাজগুলো শুরু করছি। আমাদের সরকারের বয়স হয়েছে মাত্র ১৫ দিন। আর আমি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র ছয় দিন হয়েছে। এই ছয় দিনের মাথায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ঢাকা শহরসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন গুলোতে আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আমরা সেই কাজগুলো করছি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু আবির্ভাব হবে সেই কারণে যেই খালগুলো দিয়ে পানি সচরাচর চলছে না, ময়লা দিয়ে বন্ধ আছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমরা একটা পরিকল্পনা করেছি সেই পরিকল্পনা মাফিক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ড আছে, প্রতিটি ওয়ার্ডেই এই ধরনের কমবেশি খালের সমস্যাগুলো আছে এবং ছোট ছোট যে নর্দমা আছে, যেখানে পানির চলাচল করে না সেখানে মশার লার্ভা সৃষ্টি হয়। এটাকে আমরা ভেঙে ক্রাশ করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া। আশা করছি একবার হয়ে যাওয়ার পরের দুই বছর পর্যন্ত যাতে কাউকে অপেক্ষা করতে না হয়। পরিকল্পিতভাবে একটা সুন্দর খাল এবং খালের পাশে যাতে আমাদের মানুষগুলো বিকেলে এবং সকালবেলায় হাঁটা চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে।

খাল দখল করা মানুষের যাদের বসতবাড়ি আছে ও দোকানপাট আছে তাদেরকে এখান থেকে উচ্ছেদের পর তাদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই আছে। দীর্ঘদিন যারা এখানে বসবাস করছেন তাদেরকে তো একটা পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা কিংবা তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই অবৈধ উচ্ছেদ করতে হবে। সেটা না হলে খালে তো আমি সৌন্দর্যবর্ধন করতে পারব না। তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব এবং তাদের সঙ্গে আমরা বসে একটা সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়াকে শেষ করতে চাই।

সারাবাংলা/এমএইচ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর