ঢাকা: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ায় তা সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সংশোধনের ফলে প্রাথমিক ফলাফল থেকে প্রায় ১১ লাখ ভোট কমে গেছে। ঠিক কোন আসনগুলোতে এই ত্রুটি হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নেত্রকোণা জেলার তিনটি আসনে (নেত্রকোণা-৩, ৪ ও ৫) ফলাফল প্রস্তুত করার সময় ডাটা অ্যান্ট্রিতে বড় ধরনের ত্রুটি হয়েছিল। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, মূলত এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণেই মোট ভোটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
ইসির দেওয়া তথ্যানুযায়ী,
নেত্রকোণা-৩: এই আসনে মূলত ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি, কিন্তু ভুলে এন্ট্রি করা হয় ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি। একইভাবে ‘না’ ভোটের সংখ্যা ৬০ হাজার ৭৮৭টির স্থলে ভুল করে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি দেখানো হয়েছিল।
নেত্রকোণা-৪: এই আসনে প্রকৃত ‘হ্যাঁ’ ভোট ৮২ হাজার ১২৫টি হলেও এন্ট্রি হয়েছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি। আবার ‘না’ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ২ হাজার ১১৩টির বদলে ৮২ হাজার ১২৫টি দেখানো হয়।
নেত্রকোণা-৫: এখানে ১ লাখ ৬৭১টি ‘হ্যাঁ’ ভোটের জায়গায় ভুল এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ভোট ইনপুট দেওয়া হয়েছিল। ৪৪ হাজার ৫৭৩টি ‘না’ ভোটের স্থলে এন্ট্রি করা হয়েছিল ১ লাখ ৬৭১টি।
সংশোধিত ফলাফল
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ওপর অনুষ্ঠিত এই গণভোটের প্রথম গেজেটে মোট প্রদত্ত ভোট দেখানো হয়েছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। সংশোধিত গেজেটে তা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টিতে।
সংশোধিত হিসেব অনুযায়ী, মোট ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টিতে।
ইসি’র ব্যাখ্যা
বিষয়টিকে ‘করণিক ভুল’ বা ‘ট্রান্সপজিশনাল এরর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্যগুলো হাতে ইনপুট দেওয়ার সময় এই বিচ্যুতি ঘটেছিল। তবে সংশোধনের পর এখন সঠিক ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। মূল প্রতিপাদ্য অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়লাভের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’