ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তা আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রূপ দিয়েছেন।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার নেওয়া নানা পদক্ষেপ দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।’ বিশ্বব্যাপী তার কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি ও সুনাম রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাই কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘শহিদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে নারী অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।” এ উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে গৃহস্থালির কাজ থেকে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য।’
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির ভাষায়, ‘নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।’ অতীতে সরকার আন্তরিক হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া, সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সম্মাননা তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করেন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান।
এ ছাড়া, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।