Tuesday 10 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১০ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৮ | আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫২

বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, উদ্বেগের কারণ নেই। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ের বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদেরকে তিনি এ কথা জানান।

উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সংকট চলছে এবং সে সংকটটা যত দীর্ঘায়িত হবে এটা বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ আসলে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে খুঁজে বের করা কঠিন, সম্মিলিতভাবেই এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকে কাজ করবার চেষ্টা করছি, যাতে করে জনদুর্ভোগ কমানো যায়, না হলে অন্তত সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।

তিনি বলেন, আমরা বারংবার একটি কথা বলেছি, বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। যদিও সাম্প্রতিককালে আমরা দেখেছি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। এই প্রশ্ন আসতেই পারে তাহলে কেন দীর্ঘ লাইন? এই গণমাধ্যমের বন্ধুরা অর্থাৎ আপনারাই কিন্তু এটি স্পষ্ট করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাভাবিক যে চাহিদা, সেই চাহিদার চাইতে গত সপ্তাহের পাঁচ দিন কার্যত দুই থেকে তিন গুণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এতেও আমরা মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেক ক্ষেত্রে কমাতে পারিনি কিংবা কমেনি।

এই অস্বাভাবিক চাহিদা কোনো যৌক্তিক কারণে ছিল না মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে, প্যানিক বায়িং থেকে কিংবা যেভাবেই বলেন, দেশপ্রেমের ঘাটতির জায়গা থেকে এটা ঘটতে পারে। আমরা এটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখিনি, আমরা এটি স্বাভাবিকভাবে দেখেছি এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এটি সমাধান করবার চেষ্টা করেছি।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচাইতে বড় ব্যাপার দেখেন, পেট্রোল পাম্পের লাইনটা একটা হচ্ছে মোটরসাইকেলের, আর একটি হচ্ছে প্রাইভেট ভেহিকেলের লাইন। এই সমস্ত ট্রান্সপোর্টের মূল চাহিদা কী? অকটেন এবং পেট্রোল। অকটেন এবং পেট্রোলে তো কার্যরত কোনো সংকট নেই। আপনারা জানেন- পেট্রোল কার্যত পুরোটাই বাংলাদেশেই আমরা নিজেরা উৎপাদন করি, আমরা পরিশোধন করি। অকটেনেরও সিংহভাগ আমরা কিন্তু আমাদের দেশ থেকেই কিন্তু আমরা এটি পরিশোধিত আকারে পাই, কিছু আমাদের আমদানি করতে হয়।

বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মূলত জ্বালানি আমদানি নির্ভর ডিজেলের জন্য, ফার্নেস অয়েলের জন্য। কিন্তু আপনি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখবেন যে লম্বা লাইনটা মূলত মোটরবাইক এবং প্রাইভেট ভেহিকেলের। অর্থাৎ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই উৎকণ্ঠা থেকে, উদ্বেগ থেকে তারা এই সংকটটা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, গতকাল দু’টি জাহাজ আসার কথা ছিল গড়ে ৩০ হাজার টনের জ্বালানি নিয়ে। একটি এসেছে। আর একটি বর্হিনোঙ্গরে পৌঁছেছে। আজকে দুপুর নাগাদ মনে করছি আমরা এটার জ্বালানি খালাস করতে পারবো। ১২ তারিখে আর একটি কিন্তু জাহাজ আসছে।

সেহেতু আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমরা অতীতেও বলেছিলাম—আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে বলছি, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, আল্লাহর রহমতে এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর