ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ এবং মহাখালী বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
যানজট আর ভোগান্তির আশঙ্কা থাকলেও বাড়ি ফেরার আনন্দে সব কষ্টই যেন ম্লান যাত্রীদের কাছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই টার্মিনালগুলোতে মানুষের স্রোত। গাবতলী টার্মিনালে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও রয়েছে প্রচুর যাত্রীর উপস্থিতি। যাত্রীদের চাপে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলগামী মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়েছে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকা। হাতে ব্যাগ, বগলে পোটলা আর চোখে প্রিয়জনদের দেখার ব্যাকুলতা নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। তবে সময় মত বাস না ছাড়া ও বাড়তি ভাড়া নেওয়ারও রয়েছে অভিযোগ।
বাস টার্মিনাল এলাকাগুলোতে মানুষের ভিড়ের কারণে আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।

বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ।। ছবি: সারাবাংলা
টিকিট নিয়ে বরাবরের মতো এবারও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মহাখালী বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলগামী যাত্রীরা অভিযোগ করে সারাবাংলাকে বলেন, কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও বাড়তি দামে ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসের দেখা নেই। আবার টিকিটের দামও স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নিচ্ছে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা আর যানজটের ভয় থাকলেও যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের আভা। গাবতলী বাস টার্মিনালে বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, সারা বছর এই দিনটার অপেক্ষায় থাকি। কষ্ট হলেও মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই আলাদা।

এ বিষয়ে টার্মিনালে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ থাকায় গাড়িগুলো ঢাকায় ফিরতে দেরি করছে। ফলে শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। আর বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কারও থেকে।
অন্যদিকে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রতিটি টার্মিনালে মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশ ও র্যাব। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চলমান রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে তারা সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছেন বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।